Pages

Pages

অসীম প্রতিভাধর আইয়ুব


আন্তঃকলেজ ফুটবলের ময়মনসিংহ অঞ্চলের খেলা চলছে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের কেবল কয়েক মিনিট পেরিয়েছে। খেলায় ময়মনসিংহের সৈয়দ নজরুল কলেজ দাপুনিয়া কলেজের সাথে ১-১ গোলে সমতা বিরাজ করছে। এমন সময় সৈয়দ নজরুলের মিডফিল্ডারের বিপক্ষ দলের দুইজনকে কাটিয়ে বক্সের অনেক বাইরে থেকে দুর্দান্ত শর্ট।দেখতে দেখতে বল জালে জরিয়ে গেল।বিপক্ষ দলের গোলকিপারের গোলটি দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলনা।মাঠের সমস্ত দর্শক অবাক চোখে তাকিয়ে আছে গোলস্কোরারের দিকে। টানা চার ম্যাচে সাত গোল করে একাই দলকে ফাইনালে তোলার নায়কটির নাম আইয়ুব আলী।দলকে ফাইনালে তোলার পথে চার ম্যাচের তিনটিতেই জোড়া গোলসহ মোট সাতটি গোল তার, সাথে একটি এসিস্ট। দলের সেরা খেলোয়ার হওয়ার ফলে দলের অধিনায়কের বাহুবন্ধনীও তার কাধে।প্রত্যেকটি ম্যাচেই দলকে জেতাতে রয়েছে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা।আগের ম্যাচেই দু্র্দান্ত ফ্রিকিকে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো সে।সেমিফাইনালে দলের ২-১ গোলের জয়ে দুটি গোলই তার। প্রথম গোলটিও দুর্দান্ত।পাঁচজন খেলোয়ারকে কাটিয়ে দর্শনীয় গোলটি সে করে। দলে তার ভূমিকা মূলত একজন প্লে মেকার হিসেবে।তবে তার গোল স্কোরিং এবিলিটি যে দুর্দান্ত তা আর বলে দিতে হয়না।বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুলের সাথে দলে তার ভূমিকার মিল রয়েছে।তবে মামুনুলের মতো বামপায়ের নয়,দুইপায়েই বেশ ভালো দক্ষ আইয়ুব।এখন দেখার বিষয় সে বাংলাদেশকে কিছু দিতে পারে কিনা,নাকি হাজারো সুপ্ত প্রতিভার মতো অগোচরেই রয়ে যাবে সময়ই বলে দেবে তা।
অমর্ত্য দাস দীপ

মামুনুলের পাল্টা তোপ

এই ক্লাব থেকে অনেক পেয়েছেন, দিয়েছেন সাফল্যও। সেই ক্লাবই এখন তাঁর কাছে বীতশ্রদ্ধ একটি জায়গা!
মামুনুল ইসলাম এমনও বলে দিলেন, আর কখনো শেখ জামালে খেলবেন না। পরের বাক্যটা আরও কঠোর, ‘শেখ জামালে খেলতে কেউ জোরাজুরি করলে ফুটবলই ছেড়ে দেব!’
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তাঁর। পরশু সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবটির সভাপতি মনজুর কাদেরের বিভিন্ন দাবি ও বক্তব্য নিয়ে এই মিডফিল্ডার কাল ফোনে জবাব দিলেন কক্সবাজার থেকে।
মামুনুলসহ দলত্যাগী নয়জনকে এখনো নিজেদের বলেই দাবি করেছেন মনজুর কাদের। নতুন মৌসুমের জন্য মামুনুল অগ্রিম নিয়েও শেখ জামালে যাচ্ছেন না—এমন দাবি করে কিছু কাগজপত্রও পরশু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন শেখ জামাল সভাপতি।
দাবিটা উড়িয়ে দিয়েছেন সর্বশেষ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, ‘১৪ মাস পরও আমরা এই টিমের খেলোয়াড় হই কি করে? ১০ মাসে মৌসুম, কাজেই চার মাস আগেই শেখ জামালের সঙ্গে আমাদের চুক্তি শেষ।’ নতুন মৌসুমের জন্য চুক্তি ৫০ লাখ টাকা এবং অগ্রিম হিসেবে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে শেখ জামাল অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর কথা, ‘চুক্তি করার প্রশ্নই আসে না। আমি সাড়ে ১২ লাখ টাকার চেক নিয়েছি। এর মধ্যে সাড়ে ১১ লাখ টাকার মতো গত মৌসুমে পাওনা।’ নতুন মৌসুমের জন্য যদি কিছু দেখানো হয়ে থাকে হয়তোবা আমার সই জাল করা হয়েছে। আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক জমা পড়লে যে শাস্তি হবে মাথা পেতে নেব।’
উল্টো শেখ জামালের বিরুদ্ধেই অভিযোগ মামুনুলের, ‘নতুন মৌসুমে থাকার জন্য ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য জোর করে একটা কাগজে আমার কাছ থেকে সই নিয়েছে শেখ জামাল। সই না করলে সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়া হয়।’ প্রয়োজনীয় প্রমাণ নিয়ে শেখ জামালের ফিফা-এএফসিতে যাওয়ার হুমকি প্রসঙ্গেও মামুনুল শঙ্কার কিছু দেখছেন না। বরং আইনি পথে হাঁটার চিন্তা করছেন, ‘আমি অগ্রিম কোনো পারিশ্রমিক নিইনি, তারপরও যখন বলা হয়েছে আমি নিয়েছি, এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা নয়জনের কেউই অগ্রিম পাইনি। রাজু, তকলিচ, রনি ও রুবেল মিয়া নতুন মৌসুমে থাকবে না বলে তাদের গত মৌসুমের বকেয়া টাকাও দেওয়া হয়নি। অভিযোগটা যিনি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে আমরা ৯ খেলোয়াড়ই প্রয়োজনে আদালতে যাব।’
ওদিকে নয়জন খেলোয়াড় ফেরত চেয়ে বাফুফেকে গতকাল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল শেখ জামাল। বিষয়টা নিয়ে আজ অলিখিত জরুরি সভায় বসছে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি। তার আগে কাল বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায় সব পক্ষের ওপরই কমবেশি দোষ চাপিয়েছেন। শেখ জামালকে নিয়ে বাদল রায় বলেছেন, ‘ওরা অনেক বাড়াবাড়ি করছে।’ ফেডারেশনের ভুলও তাঁর চোখে পড়েছে, ‘যেহেতু বিতর্ক হচ্ছিল, তাই খেলোয়াড় কখন মুক্ত হবে সেটা আগেই ফেডারেশনের পরিষ্কার করা উচিত ছিল। তবে বাদল খেলোয়াড়দেরই বেশি দোষ দেখেন, ‘খেলোয়াড়েরা দুই ক্লাব থেকে টাকা নেয় যে কারণে এই ঝামেলা।’
শেখ জামালের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ
দলটিতে খেলতে কেউ জোরাজুরি করলে খেলাই ছেড়ে দেবেন!
প্রয়োজনে আদালতে যাবেন। তবুও যাবেন না শেখ জামালে।

সবাই জানে শেখ জামাল ক্লাবে ফরোয়ার্ড পজিশনে ৩ টাই বিদেশী খেলোয়ার খেলে

বাংলাদেশের এক উদিয়মান তরুণ ফুটবলার ছিলেন সাখাওয়াত রনি কিন্তু বর্তমানে তিনি এক হতাশার নাম শেখ জামালের বেঞ্চে পুরো সিজন কাটিয়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন তবে তিনি আশাবাদী আগামী সিজনে অন্য কোন ক্লাবে নিয়মিত খেলে আবার তার জাতীয় দলের স্থান ফিরে পাবেন এই নিয়ে কথা হলো তার সাথে
প্রশ্ন: আপনি অনেকদিন ধরে খেলার মধ্যে নেই এর কারণ কী ?
সাখাওয়াত রনি: নিয়মিত খেলতে না পারাটাই এর কারণ
প্রশ্ন: আপনার যখন অভিষেক হয় তখন কিন্তু আপনি অনেক সম্ভাবনাময় ছিলেন কিন্তু আপনাকে নিয়ে এখন সবাই হতাশ এটাকে কিভাবে মূল্যায়ণ করেন ?
সাখাওয়াত রনি: আমি জানি আমার থেকে সবার অভিজ্ঞতা বেশি খেলতে পারছিনা বলে আমারও অনেক খারাপ লাগছে তাই পরবর্তী মৌসুমে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেব এমন একটা ক্লাবে যাব যেন খেলে আবার নিজেকে প্রমাণ করতে পারি
প্রশ্ন: এখন তো জাতীয় দলে পারফর্মার অনেক বেড়েছে তাই আপনার ফেরাটাও তো সহজ হবে না
সাখাওয়াত রনি: আমি জানি কিন্তু আমি যদি মাঠে আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি তাহলে সুযোগ অবশ্যই আসবে আবার.......এখন শুধু টার্গেট পরের বছর যেন নিয়মিত খেলতে পারার মতো কোন একটা ক্লাবে যাওয়া
প্রশ্ন:জুয়েল রানা ,সবুজরা ক্লাবে নিয়মিত পারফর্ম করে এখন জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে গেছেন আপনার এই অবস্থার জন্য ক্লাবের দায় কতটুকু?
 সাখাওয়াত রনি: আসলে এখানে আমি ক্লাবের দোষ দেবনা আমারও উচিত ছিল এই সিজনে ক্লাব বদল করা আর সবাই জানে শেখ জামাল ক্লাবে ফরোয়ার্ড পজিশনে টাই বিদেশী খেলোয়ার খেলে তাই সেটা জেনেও আমার এই মৌসুমে এই টিমে থাকাটা উচিত ছিলনা তাই এখন টার্গেট শুধু পরবর্তী মৌসুমে একই ভূল না করা
প্রশ্ন:এক্ষেত্রে কী টাকার ব্যাপারটা কাজ করছে ?
সাখাওয়াত রনি: প্রায় টিমে দেখা যায় খেলোয়াররা ঠিকমতো টাকা পায়না নিয়মিত খেলার পরও কিন্তু শেখ জামাল টাকা নিয়ে কোন সমস্যা হয়না ঠিক সময়ে সব খেলোয়ার টাকা পেয়ে যায় সত্যি বলতে কি এই ক্লাবের কাড়ি কাড়ি টাকা আছে কিন্তু নিয়মিত খেলতে পারার কোন নিশ্চয়তা নেই ( মূলত স্টাইকার পজিশনে )
প্রশ্ন:তাহলে এই ক্লাবে এতদিন পরেও রয়ে গেলেন কেন ?
সাখাওয়াত রনি: আমি চাইলেই তো ক্লাব ছাড়তে পারিনা এইটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ক্লাবের উপর ক্লাব যদি আমাকে ছেড়ে দিত তাহলে তো অবশ্যই কোন ক্লাবে গিয়ে খেলতে চেষ্টা করতাম তাই আমি চাইলেই সিজন শেষ হবার আগে ক্লাব বদল করতে পারিনা
প্রশ্ন:গত সিজনে  আফুসির সময়ে আপনি প্রায় পুরো সিজনটাই বেঞ্চে বসে কাটালেন তাহলে তাও কেন এই সিজনেও এই ক্লাবেই পড়ে রইলেন ?
সাখাওয়াত রনি: আসলে যখন দল বদল আসলো তখন স্বাভাবিকভাবেই সব দল খেলোয়ার সংগ্রহ করার কথা কিন্তু মুহূর্তে শুধু শেখ জামাল আর শেখ রাসেল ক্লাব ছাড়া আর অন্য কোন দলে খেলোয়ার সংগ্রহ করেনি তাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম রিস্ক নিতে তাই আবারও নিশ্চিত করি শেখ জামালকে আবার তার সাথে সাথে নিশ্চিত হই যে আমাদের কোচ হচ্ছেন মারুফ ভাই তাই ভেবেছিলাম আফুসী খেলার সুযোগটা আমাকে দেয়নি মারুফ ভাই হয়তো দিবে তাই সবকিছু চিন্তা করে আবারও নিশ্চিত করেছিলাম শেখ জামাল ক্লাবকে
প্রশ্ন:কিন্তু টাকা কম পেলেও জুয়েল রানা , ওয়াহেদ , সবুজরা ক্লাবে নিয়মিত খেলতে পারে যা তাদের জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে তাদের দেখে আফসোস হয় না ?
সাখাওয়াত রনি: হুমম হয় কিন্তু এখন তো আর কিছু করার নেই তাই পরবর্তী মৌসুমে আর ভূল করবোনা খেলার চিন্তাটা মাথায় রেখে নিয়মিত খেলতে পারব এমন কোন একটা টিমে যাব আমি যদি মাঠে আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই আমি জাতীয় দলে আমার যে পজিশনটা ছিল সেটা আবার ফিরিয়ে আনতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি
প্রশ্ন:সর্বশেষ ,সামনে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি খেলা দুটি খেলার ফলাফল নিয়ে আপনি কেমন আশাবাদি ?
সাখাওয়াত রনি: আমি মনে করি এখন যে দলটা আছে সেটা সেরা দল সবাই মাঠে খেলে নিজেদের প্রমাণ করে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছে তাই এই দলটা চাইলে অনেক ভালো ফলাফল করতে পারে অলরেডি সিঙ্গাপুর আফগানিস্থানের সাথে টা প্রস্তুতি ম্যাচে অনেক ভালো খেলেছে এই দল তাই সবাই যদি সবার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে তাহলে সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব টা ম্যাচ ভালো ফলাফল করবে বলে আমি আশা করি